ছোটবেলা থেকেই আমরা জানি, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।  শুধুমাত্র নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হলেই কিন্তু আমরা সেই সুপার হিরো হতে পারবো যা আমরা হতে চাই ছাত্রজীবনে, কর্মজীবনে, ব্যাক্তি জীবনে এবং  প্রিয়জনদের কাছে।  কিন্তু সুপার হিরো হওয়া কি এতই সহজ? প্রতিদিনই ব্যায়াম এর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজ। এটি একটি বড় প্যারাডক্স কারণ,এক দিকে, সফলতার পেছনে দৌড়ে আমরা  ব্যায়াম করার সময় খুঁজে পাই না; অন্যদিকে, এই ব্যায়ামই হচ্ছে আমাদের জীবনে সুসাফল্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ব্যায়াম এবং একই সাথে সক্রিয় জীবনধারার সামঞ্জস্য কিভাবে বজায় রাখা যায় এই ব্যাপারে কিছু সহজ টিপস আলোচনা করা যাক।

. ব্যায়ামের জন্যে আলাদা সময় রাখো এবং সেটার প্রতি কমিটেড থাকো

ব্যায়াম ফাঁকি দেয়ার জন্য যে কথাটা সবচেয়ে বেশি বলা হয় তা হচ্ছে, “আমি আজ খুব ব্যস্ত আছি,আজকের জন্য নাহয় থাক।“

আচ্ছা বলোতো, আজকেই যদি তোমার সবচেয়ে প্রিয় কোম্পানী থেকে হঠাৎ একটা জব ইন্টারভিউর কল আসতো,  তাহলে কীভাবে তুমি সেই পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবেলা করতে? ইন্টারভিউ ক্যান্সেল করতে? ধরলাম, রিশিডিউল করার সুযোগ নেই। তখন কিন্তু ঠিকই তুমি সময় বের করে তার জন্য প্রস্তুতি নিতে।আসলে, যখন আমাদের সত্যিই কিছুর প্রয়োজন, তখন আমরা শত ব্যস্ততার মাঝেও সময় ঠিকই বের করে নিতে পারি। তাই নিজেকে মনে করিয়ে দাও যে ব্যায়াম করা অন্যান্য সব কাজের মতই গুরুত্বপূর্ণ। একটি সময়সূচী তৈরি করো, (প্রয়োজনে লিখে রাখো), সেটার প্রতি অনড় থাকো।

 

 ২. বেশি নয় তো অল্পই সই

একটি পরিপূর্ণ, কার্যকর  ওয়ার্কআউট সেশন শেষ করতে এক ঘন্টা বা এমনকি ৩০ মিনিটেরও প্রয়োজন হয় না। কিন্তু, ব্যায়াম বললেই আমরা ভাবি যে জিমে যেতে হবে, ১ ঘন্টা করে ব্যায়াম করতে হবে, কতগুলো টাকা খরচ করতে হবে, আবার ব্যায়াম ছাড়লে মোটা হয়ে যাব, ইত্যাদি। এটা খুবই ভুল ভাবনা।

একেবারেই ব্যায়াম না করার থেকে দৈনিক সামান্য ব্যায়ামই আনতে পারে অনেক অনেক সুফল। এমনকি পাঁচ মিনিটও তৈরি করতে পারে বিশাল বড় ব্যাবধান। সারা দিনে আমরা অল্প কিছু সময় বের করতেই পারি। যখন যেখানেই থাকো না কেন এবং হাতে যতটুকু সময় থাকুক না কেন, বেসিক কিছু ব্যায়াম তুমি সব সময় করতে পারবে। ব্যায়াম তোমাকে জিমে গিয়ে করতে হবে এমন ধারণা ভুল, ঘরে বা ক্লাসরুমে বসেও কার্যকরী ব্যায়াম করা সম্ভব।

মাত্র ৭ মিনিটে ব্যায়াম করার এই ভিডিওটা দেখে নাও, আজ থেকে প্রতিটি সকাল নাহয় এটা দিয়েই শুরু করলে?

৩. ইতিবাচক চিন্তা করো

একটি গ্লাসের অর্ধেকটা পানি দিয়ে ভরা। এখন, গ্লাসটি কি অর্ধেক খালি না অর্ধেক পূর্ণ? এই প্রশ্নটি আমরা বহুবার শুনেছি। তোমার উত্তর সরাসরি সম্পর্কযুক্ত জীবনের ওপর তোমার দৃষ্টি ইতিবাচক বা নেতিবাচক  কিনা।

নিজেকে বলো, “আমি নিজের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিব”, “ব্যায়াম করার জন্য আমি কিছু সময় নির্দিষ্ট রাখব”, “আজকে আমি প্রোডাক্টিভ কিছু করবো”।

সময়ের সাথে সাথে এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক চিন্তাধারাকে হার মানাবে এবং তুমি স্পষ্টভাবে নিজের মধ্যে পরিবর্তন দেখতে পাবে। ইতিবাচক মানসিকতা সম্পন্ন একটি মন সফলতা, আনন্দ ও সুস্বাস্থ্যের প্রত্যাশা করে।

৪. নিজের পরিবারকে এবং বেস্ট ফ্রেন্ডদেরও অনুপ্রাণিত করো

পরিবারের দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা যদি তোমার নির্ধারিত ওয়ার্কআউট প্ল্যানে বাধা হয়ে দাড়ায়, তাহলে পরিবারের সদস্যদেরই তোমার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলো। পরিবার নিয়ে পর্বতারোহণ বা হাইকিং, ফুটবল ম্যাচ, ইভিনিং অয়াক, সাইক্লিং বা সবাই মিলে জিম করার অভ্যাস গড়ে তোল। কোন ধরনের ওয়ার্কআউট করবে সেই সিদ্ধান্ত   যার যার হাতে ছেড়ে দাও। তোমার ছোট ভাই বোন যখন দেখবে ব্যায়াম তোমার কাছে খুবই জরুরী, এটা তাদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রমাণিত হবে। আর মনে রাখবে যে দিন শেষে তুমি ব্যায়াম করছো তোমার পরিবারের সুখ ও সমৃদ্ধির জন্যেই, তোমার ও তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্যেই।

বাস্তব জীবনের ইন্সপিরেশনঃ অ্যামেরিকান অন্ট্রোপ্রোনিউর ও মার্শাল আর্ট কোচ বিল ভায়োলার পরিবার

৫. “না” বলতে শেখো

যারা সবসময় অন্যকে সন্তুষ্ট করতে চেষ্টা করে, অন্যে কি মনে করবে না করবে তা ভাবে, তারা বেশি টেনশনে ভোগে। আর যারা নিজের ইচ্ছা ও অনিচ্ছাকে গুরুত্ব দেয় তাদের টেনশন তুলনামূলকভাবে কম। তাই বলে নিষ্ঠুর বা অভদ্র হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের জন্যে দৃঢ় হতে শেখো।‘না’ বলতে পারা একটি আর্ট। বন্ধু-বান্ধবরা হয়ত প্রায় সময় আড্ডা দেয়ার জন্য ডাকবে, একই সময় তোমার প্ল্যান হয়ত ছিল ব্যায়াম করার। এরকম মুহূর্তে নির্দ্বিধায় না বলে দাও।

দেখো, এই বিশাল জীবনের ক্যানভাসে একটা আড্ডা মিস করলে কিছুই হবে না। কিন্তু ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলার সময় একটা দিনের অভাবেই তোমার অভ্যাসের ১২টা বেজে যাতে পারে। এবং আবারো হঠাৎ একদিন তুমি নিজের গরম গরম ডালপুরির মতো ফুলে ওঠা ভুড়ির দিকে তাকিয়ে অনুভব করবে, “ইশ! কেন যে ব্যায়ামটা ধরে রাখলাম না?”

আর যদি হুটহাট একদিনের আড্ডা বাদ দিয়ে ব্যায়ামের রুটিন ধরে রাখতে পারো? তুমি অনুভব করবে, এই ‘না’ বলতে পারায় তুমি স্বস্তি পেয়েছো এবং তোমার টেনশন কমে গেছে। আর ‘না’ বলার কৌশল রপ্ত করতে পারলে দেখবে তোমার বন্ধুরাও ব্যাপারটিকে সহজভাবে নিয়েছে। মনে রেখো, তুমি মোটা হলে তারাই তোমাকে পচাবে আবার তোমার সিক্স প্যাক থাকলে বা তুমি ফিট থাকলে তারাই বাহবা দিবে। এখন তুমি বেছে নাও তুমি কোন দলে থাকতে চাও। ফিট মানুষদের দলে? নাকি অস্বাস্থ্যবান মানুষদের দলে?

৬. কিছু মৌলিক নিয়মাবলী

  • সকালে ঘুম থেকে উঠেই ব্যায়াম করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ঘুম এর পর সকালে ব্যায়াম সারাদিন শরীরকে ফুরফুরে রাখতে পারে।
  • দুপুরবেলা বা বেশি গরমের মাঝে ব্যায়াম না করাই ভাল।
  • অনেক ব্যস্ততার কারণে যারা দিনে ব্যায়াম করার সময় পাও না, তারা রাতে অল্প সময়ের জন্য ব্যায়াম করতে পারো।
  • খাবারের মেনু থেকে যতটা সম্ভব মিষ্টি, কোমল পানীয়, ফাস্টফুড ইত্যাদি বাদ রাখাই ভাল।
  • সকালে ব্যায়াম করে দিনশেষে ভরপেট খেয়ে বাসায় ফিরলে, তাতে ব্যায়াম এর কোন কার্যকারিতা থাকবে না।
  • ব্যায়াম করার আগে বা পরপরই অধিক পরিমান পানি পান করা ঠিক না।

 

অবশেষে বলবো, মনে রাখবে, ব্যায়াম তোমাকে শক্তি দেয় এবং তোমার কর্মব্যস্ত জীবনে ফুয়েল হিসেবে কাজ করে। সুতরাং ব্যায়ামকে আরো কয়েকটি নেহায়েত অপ্রয়োজনীয় কাজের মত তুচ্ছ মনে করাটা বোকামি। বরং ব্যায়াম এবং কর্মজীবনে সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা করো যাতে তুমি একটি সক্রিয় এবং পরিপূর্ণ জীবনধারা অর্জন করতে পারো।

 

 

I am Miraj.

Passionate about marketing, cricket and travelling.

Continuously seeking to learn and eager to leave a legacy.

Comments

comments