এটা খুবই অসাধারণ একটা ব্যাপার, কারণ তুমি বুঝতে পেরেছ যে তোমার একটু আত্মবিশ্বাসী হওয়া দরকার। অথবা, আরও অসাধারণ ব্যাপার  যদি তুমি আত্মবিশ্বাসী কিন্তু, আরো আত্মবিশ্বাসী কিভাবে হওয়া যায় তা জানতে এসেছ। অতএব আত্মবিশ্বাসী হওয়া কেন দরকার- সেই আলোচনায় যাচ্ছি না। সরাসরি চলে যাই মূল বিষয়েঃ

 

আত্মবিশ্বাসী হবার প্রথম নিয়মঃ  নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো

ডক্টর ব্রিন ব্রাউন একজন রিসার্চার, যিনি University of Houston Graduate College of Social Work এ কাজ করেন। গত ১৩ বছর ধরে তিনি vulnerability, courage, worthiness, এবং shame অর্থাৎ, সহজেই মানসিকভাবে আহত হওয়া, সাহস, নিজেকে যোগ্য মনে করা এবং লজ্জা/অপমান নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণায় তিনি দেখেছেন, যে মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়- একদল মানুষ যা করে সে ব্যাপারে তার নিজের ওপর কোন ভরসা থাকে না, অর্থাৎ তার পদে পদেই মনে হয় যে, আমি কি ঠিক করছি? কোথাও কি ভুল হচ্ছে? আরেকদল মানুষ এই অনুভূতির ভেতর দিয়ে যান না- তারাই আত্মবিশ্বাসী।

এই দুই দলের মানুষের মধ্যে পার্থক্য একটাই- যারা আত্মবিশ্বাসী তারা বিশ্বাস করেন যে তারা তাদের মধ্যে যোগ্যতা আছে কাজটা করার, তারা সেই কাজ করার সুযোগ ‘ডিজার্ভ’ করেন বা তার কাজটা এবং তিনি নিজে মূল্যবান। মিসেস ব্রাউন তাঁর টেড টকে এই বিষয়টি তিনি উপস্থাপন করেন।
অতএব, প্রথমেই তোমাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, তুমি মূল্যবান। তুমি যোগ্য, তোমার অধিকার আছে এই সমাজে প্রতিষ্ঠা পাবার, ভালোবাসা পাবার, সম্মান পাবার। এবং এটাই স্বাভাবিক। একবার ভেবে দেখো, এই পৃথিবীতে তোমার বেঁচে থাকাটা কত সৌভাগ্যের একটা বিষয়। তুমি নিজেকে যত ক্ষুদ্রই মনে করো না কেন, তোমারও একটা শৈশব আছে, কৈশোর আছে, তোমার জীবনেও এমন অনেক মুহূর্ত আছে যা অন্য কারো নেই। তোমারও কোন না কোন বিষয়ে অন্যদের থেকে দক্ষতা আছে। যদি চাও যে অন্যদের চোখে তোমার আত্মবিশ্বাসী চেহারা ধরা পড়ুক, তবে নিজের ওপর বিশ্বাস আনতেই হবে।

কম সময়ে আত্মবিশ্বাসী হবার জন্যে কি  কি অ্যাকশন আজ থেকেই নেওয়া উচিৎ

a. শারীরিক ভাষা বদলঃ পাওয়ার পোজিংঃ

প্রথমেই, নিজের শারীরিক দাঁড়ানোর, বসার এবং মানুষের সাথে কথা বলার ভঙ্গী ঠিক কর। এই ছবিগুলোর সাহায্য নাও।  এইমি কাডি, যিনি এ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ, Presence: Bringing Your Boldest Self to Your Biggest Challenges– এই বইটির লেখিকা, তাঁর মতামত থেকে বলছি। তাঁর টেড টকে তিনি এই বিষয়ে যথেষ্ট যুক্তি উপস্থাপন করেন। যার সারমর্ম হচ্ছে, মানুষ দূর থেকেই তোমার শারীরিক অঙ্গভঙ্গী দেখে আপনার বিষয়ে ধারণা করে নেয়। তাই আপনি কিছু বিশেষ উপায়ে দাঁড়ালে, বসলে বা কথাবার্তা বললে আশেপাশের মানুষের মনে তুমি আত্মবিশ্বাসী- এই ধারণা তৈরি হবে। নিচের ছবিগুলো ভালোভাবে লক্ষ্য কর এবং নিজেকে তৈরি কর আত্মবিশ্বাসী হিসেবে।

Capture Capture12

এবারে এই ছবিগুলো দেখে নাও, এবং এধরনের দুর্বলভাবে থাকা বন্ধ করঃ
3Capture
এই চারজনকে দেখেই কেমন ডিপ্রেসড লাগছে, তাই না? তোমাকেও লাগে, যখন তুমি এভাবে বসে থাকো। আমাকেও লাগতো, যখন আমি ইউনিভার্সিটিতে এভাবে হাঁটতাম। কিন্তু এখন আমি আর এভাবে চলি না। কারণ একটাই জীবন, মাথা নিচু করে থাকলে সামনে কি আছে দেখব কিভাবে?

কারণ একটাই জীবন, মাথা নিচু করে থাকলে সামনে কি আছে দেখব কিভাবে?

 

b. মুখে হাসি ধরে রাখোঃ

ছোটবেলায় ফিরে যাও একটু। মামা, চাচা, খালা, ফুপু, স্কুল টিচারদের কথা ভাবো। তাদের মধ্যে কারা তোমার প্রিয় ছিল? এবার আরেকটু ভালো করে দেখ, যারা প্রিয় তাঁরা সবাই কিন্তু তোমার সামনে হাসিমুখে থাকতেন। যারা গোমড়া মুখে থাকে, তাদের কারোই সহজে ভালো লাগে না। এখন যদি গোমড়মুখো চাচা প্লেস্টেশন থ্রি কিনে দেয় তো ভিন্ন কথা। ওটা ব্যতিক্রম। কিন্তু সহজেই ‘লাইকেবল’ হতে গেলে এবং আত্মবিশ্বাসী হবার অ্যাকশন নিতে গেলে, মুখে হাসি ধরে রাখার বিকল্প নেই। তাই বলে সবজায়গায় গিয়ে আবার দাঁত কেলিয়ে বেড়াতে বলছি না। প্রসন্ন একটা এক্সপ্রেশন ধরে রাখাঁ উচিৎ। জীবনে যত ঝড়তুফানই বয়ে যাক, কোনকিছুওই যাতে মুখের হাসি উড়িয়ে না নিতে পারে। American Academy of Cosmetic Dentistry এর রিসার্চে দেখা গেছে,  ৮৯% আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মনে করেন যে সুন্দর হাসি তাদেরকে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে।

কি, ঠিক না?

c. আই কন্টাক্টঃ

কেন জানি, আই কন্টাক্টের কথা শুনলেই আমার চোখে চোখে কথা বলার কথা মনে হয়, এবং আজকে তারপর হঠাৎ এই আজিব এডটার কথা মনে পড়ে গেল।

via GIPHY

[রেস্ট ইন পিস কপিরাইটিং] তবে এখানে একটা শিক্ষণীয় ব্যাপার আছে। সেটা হলো, মেয়ে দেখলেই যারা ঠোঁটে ঠোঁটে কথা বলতে চায়, তাদের সামনে থেকে মেয়েরা এভাবে ভ্যানিশিং ক্রিম ছাড়াই ভ্যানিশ হয়ে যায়।

আসল কথায় আসি। আই কন্ট্যাক্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আত্মবিশ্বাসী হতে পারেনি যারা- তাদের অন্যতম লক্ষণ হচ্ছে কথা বলার সময় চোখ অন্যদিকে সরিয়ে ফেলা- এদিক ওদিক তাকানো। এমন করলে হবে না। আত্মবিশ্বাসী হতে চাইলে জানতে হবে কিভাবে আই কন্ট্যাক্ট  রাখা যায়। খুব সহজ একটা নিয়ম বলে দিই- আমরা সাধারণত যে দূরত্বে দাঁড়িয়ে কথা বলি, তাতে করে যার সাথে কথা বলছো, তার চোখের একটু নিচে বা নাক আর চোখের কোনায় তাকালেও সে ধরতে পারবে না তুমি চোখ সরাচ্ছো। এমন কথা বলতে বলতে যদি চোখ সরানোর ইম্পালস আসে, তখন দুই চোখের মাঝখানে নাকের জায়গায় কিছুক্ষণ চোখ রাখতে পারো, এক চোখ থেকে আরেক চোখের দিকে ফোকাস করতে পারো।

আর যখন অন্য কেউ কথা বলছে তুমি শুনছো তখন মনোযোগ দিয়ে তার দিকে তাকাও। তাকেও গুরুত্বপূর্ণ হবার অনুভূতি দাও- মনে রেখো, আত্মবিশ্বাসী মানুষরা কিন্তু আশেপাশের মানুষকেও আত্মবিশ্বাসী করে তুলে এবং তোলার চেষ্টা করে (এই যেমন আমি, হাহাহা)।

আজকে আমি এই বিষয়টাতে এত গুরুত্ব দিচ্ছি কারণ আসলেই আমাকে এই বিষয়গুলি অনেক সাহায্য করেছে। আগামী পর্বে আমরা বাকি উপায় গুলি নিয়ে আলোচনা করব। এখন এই গুলি চেষ্টা করো- মনে রাখবে, একদিনেই তুমি আত্মবিশ্বাসী হতে পারবে না। এটা নিয়মিত করতে হবে। এবং তোমাকে  আসলেই আত্মবিশ্বাসী হতে চাইতে হবে।

তবে এই উপায়গুলি ছাড়াও বিশাল একটা ফ্যাক্টর আছে- তা হলো সাফল্য। সুতরাং তুমি সফল হবে- এমন বিশ্বাস মনের মাঝে ধারণ করো। (একটু শিব খেরা টাইপের ডায়ালগ হয়ে গেলো- তুমিও পারবে টাইপের, জানি। হাসি পেলে হেসে নাও।) কিন্তু, আমি পারবো- এই কথাটা যদি অন্তঃস্থ না করো, তাহলে কোনটা করবা? আমি পারবো না? এমনভাবে যদি ভাবো, তাহলে তুমি আসলেও পারবে না। যদি “আমাকে দিয়ে হবে না” হয়ে থাকে তোমার অস্তিত্বের ডিফাইনিং স্টেটমেন্ট – তাইলে তুমি শ্যাষ মামা। এইসব ব্লগ পড়া বাদ দিয়ে ঝালমুড়ি খাও।

Comments

comments